প্রভাবশালীর তালিকা করছে লন্ডন-ভিত্তিক সংস্থা ‘ব্রিটিশ বাংলাদেশি পাওয়ার
অ্যান্ড ইন্সপিরেশন’। এই তালিকায় ঠাই পেয়েছেন প্রযুক্তিবিশ্ব মাতানো তিন
বাংলাদেশি জোয়াদ করিম, সালমান খান ও সুমাইয়া কাজী। বুধবার লন্ডনের ব্রিটিশ
পার্লামেন্ট কমনওয়েলথ রুমে এই তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
জোয়াদ করিম – ইউটিউব সহ-প্রতিষ্ঠাতাসেরা দশ প্রভাবশালী বাংলাদেশির তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন জোয়াদ
করিম। অনলাইনে ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউবের সহ-প্রতিষ্ঠাতা তিনি। যেই
তিনজনের মাধ্যমে ইউটিউবের যাত্রা শুরু হয় তার মধ্যে তিনিই ছিলেন বাংলাদেশি
বংশোদ্ভূত। বাংলাদেশি হলেও জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পরবর্তীতে
১৯৯২-এ পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে পেপালে কাজ
করার সময় দু’জন সহকর্মী চাড হারলে ও স্টিভ চিনের সঙ্গে মিলে ২০০৫ সালে
ভিডিও শেয়ারিং-এর ধারণা নিয়ে ইউটিউব প্রতিষ্ঠা করেন। ইউটিউবের আপলোড করা
প্রথম ভিডিওটি ছিলো সান ডিয়েগো চিড়িয়াখানায় জোয়াদ করিমের ভ্রমনের চিত্র।
সালমান খান – খান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতাঅনলাইনে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক কিংবা শিক্ষামূলক কোনো রিসোর্স খুঁজছেন অথচ
খান একাডেমির নাম শোনেননি এমন লোক পাওয়ার খুবই দুস্কর। ২০০৬ সালে
প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট খান একাডেমিতে রয়েছে হাজার হাজার
রিসোর্স। আর এটি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সালমান খান। সেরা ১০
প্রভাবশালী বাংলাদেশির তালিকায় তিনি রয়েছেন চতুর্থ অবস্থানে।
খান একাডেমি ওয়েবসাইটটিতে রয়েছে এক লাখেরও বেশি অনুশীলনী, চার হাজারেরও
বেশি মাইক্রো-লেকচার। এগুলো ভিডিও আকারে ইউটিউবে সংরক্ষিত। গণিত,
পদার্থবিজ্ঞান, ইতিহাস, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, মেডিসিন, অর্থনীতি, রসায়ন,
জীববিজ্ঞান, জ্যোতির্বিদ্যা, জৈব রসায়ন, আর্টস, কম্পিউটার বিজ্ঞানসহ প্রচুর
বিষয়ে পড়াশোনার জন্য রিসোর্স রয়েছে। বিনামুল্যেই এই সাইট থেকে বিশ্বের যে
কেউ পড়াশোনা করতে পারেন এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। খান একাডেমির উদ্যোক্তা ও
শিক্ষক সালমান খান যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় জন্মগ্রহণ করেন। তার মা
ভারতের কলকাতায় এবং বাবা বাংলাদেশের বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। লুইজিয়ানার
পাবলিক স্কুল থেকে পাশ করে পরবর্তীতে তিনি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব
টেকনোলজিতে পড়াশোনা করেন।
সুমাইয়া কাজী – সুমাজি নেটওয়ার্কতালিকায় নবম স্থানে রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন তোলা সুমাজি নেটওয়ার্কের
উদ্যোক্তা সুমাইয়া কাজী। সান ফ্রান্সিকো ভিত্তিক তার এই স্টার্ট-আপ
ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি পুরস্কার জিতে নিয়েছে। তবে সুমাজির আগেও তিনি তরুণ
পেশাদারদের জন্য ‘দ্য কালচার কানেক্ট’ নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।
সুমাজি মূলত একটি ইন্টেলিজেন্ট সোশ্যাল নেভিগেশন সিস্টেম। এটি ফেইসবুক ও
লিংকডইনের মাধ্যমে একটি নতুন লেয়ার তৈরি করে। ফলে ব্যক্তিগত ও পেশাদার
নেটওয়ার্ককে সমন্বয় করা যায় সুমাজির মাধ্যমে। হলিউডে জন্মগ্রহণ করা
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুমাইয়া কাজী ক্যালিফোর্নিয়ায় বেড়ে ওঠেন। ডিগ্রি অর্জন
করেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া থেকে। এরপর সান মাইক্রো সিস্টেমসে
কাজ শুরু করেন।
0 comments:
Post a Comment